১৩ বছর ধরে শরীয়তপুরের ডামুড্যায় জয়ন্তী নদীতে নৌকায় বসবাস করা বৃদ্ধা গোলাপী (৯০) ও তার ছেলে নুরু মিয়া (৫৫) এবার জল ছেড়ে ডাঙায় উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরে ঠাঁই পেয়েছেন তারা। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান।
জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, মুজিববর্ষে গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর ও জমি প্রদানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর গোলাপী ও তার ছেলে নুরু মিয়াকে দেয়া হয়েছে।
ডিসি বলেন, গত ২০ জুন গোলাপীকে ঘরের মালিকানার কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়া হয়। আজ তাকে ঘর, ঘরের ফার্নিচার, নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করি গোলাপী ও তার ছেলে নুরু মিয়া এখন সামনের দিনগুলো সুখে-শান্তিতে কাটাতে পারবেন। তাদের সুখের সঙ্গ আমরা সম্পৃক্ত হতে পেরেছি, এটাই আমাদের কাছে আনন্দের।
এসময় ডামুড্যা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ, ডামুড্যা পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম রাজা ছৈয়াল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাহমিনা আক্তার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা গোলাপী বলেন, ‘আগে ছেলের সঙ্গে নৌকায় থাকতাম। সাংবাদিকরা আমার কষ্ট দেখে নিউজ করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঘর দিল। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঘরটিতে থাকব। আমি খুবই খুশি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোলাপীর জীবনের পুরোটা সময় কেটেছে দুর্দশার মধ্যে। তিনি ঢাকায় এক বস্তিতে ছিলেন। তখন স্বামী মারা যান। ছেলে নুরু মিয়া তাকে জোর করে গ্রামে নিয়ে আসেন। গ্রামে আসার পর থেকে ছেলের বউ তাকে দেখতে পারতেন না। মাঝে মধ্যে গালাগালি করতেন। বেশ কয়েকবার এটা নিয়ে দরবার-সালিশ হয়। পরে তার ছেলে তাকে নিয়ে নদীতে একটি নৌকায় থাকা শুরু করেন। ছেলে এই নৌকা দিয়ে মাছ ধরতেন। এতে যা রোজগার হতো, তাই দিয়ে তাদের সংসার চলত। কোনোদিন মাছ না পেলে মা-ছেলেকে না খেয়ে থাকতে হতো।
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের বাসিন্দা গোলাপী ও তার ছেলে। জীবনের চক্রে একসময় নৌকাই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র বাসস্থান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল আলী
©২০২০-২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || পাবনা নিউজ পোস্ট.কম