গত ১৭ মার্চ মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ১০২ তম জন্মবার্ষিকীতে ছাত্রীদের সাথে কাঁচা বাদাম ও ডিজে গানে নেচে সমালোচনার ঝড় তোলের বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পরে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকে শোকজ করা করা হয়। লিখিত চিঠির জবাবে প্রধান শিক্ষক তার লিখিত বক্তব্যে জানান তার অনুপস্থিতে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক মঞ্চে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়েছে। এজন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থী।
তার লিখিত ঐ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে গত বুধবার (২৩ মার্চ) বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিপন কে সাময়িক বরখাস্ত করতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশ দেন। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তবে রিপন সহকারী শিক্ষক হওয়ায় তাকে বহিঃষ্কার করা হলেও নিজের অনুপস্থিতির কথা বলে সুকৌশলে নিজেকে বাচিয়ে নিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি বাবু মহলদার। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না এমন বক্তব্য হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে সাধারন মানুষের কাছে।

সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা বলেন, ঐ ভিডিও তে দেখা যায়, নাচের জন্য একজন স্যার শিক্ষার্থীদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। যেখানে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতিও অংশগ্রহন করে বড় অংকের টাকা পুরষ্কার হিসেবে দিচ্ছেন এবং প্রধান শিক্ষক দর্শকসারীতে বসে তা উপভোগ করছেন। এমন নাচের জন্য ৭ দিন আগে থেকে ছাত্রীদের প্রাকটিস করানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত একাধিক শিক্ষার্থী । তাহলে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত নয়, বরং পরিকল্পনা করে করা হয়েছে এবং এখন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, অনুষ্ঠানে সবাই স্ব শরীরে উপস্থিত থেকেও
কারোর কিছু হলো না, অথচ রিপন সহকারী শিক্ষক হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হলো। তার প্রতি অবিচার করা হলো। আসলে ক্ষমতা থাকলে কারোরই কিছু হয় না তা আবারো প্রমানিত হলো।
তবে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতির বিষয়টি এবার সবার সামনে আনতে যাচ্ছে মিডিয়া।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে 'কাঁচা বাদাম' গানে ছাত্রীদের উদ্যম নাচের ঘটনায় পাবনার ঈশ্বরদীর মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও অনুষ্ঠানের উপস্থাপক রফিকুল ইসলাম রিপনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিষয়ে তদন্ত করতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম মোসলেম উদ্দিন। এর আগে বুধবার (২৩ মার্চ) এক আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
এর আগে দেশব্যাপী ভাইরাল বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসের নজরে এলে গত ২১ মার্চ প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশের প্রেক্ষিতে লিখিত জবাব দেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান। ক্ষমা চেয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার অনুপস্থিতে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সহকারী শিক্ষক মঞ্চে এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়েছেন।
তার লিখিত জবাবের পর পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে গত বুধবার (২৩ মার্চ) বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম রিপনকে সাময়িক বরখাস্ত করতে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে সহকারী শিক্ষক রিপনকে বরখাস্ত করা হলেও সুকৌশলে নিজেদের রক্ষা করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান ও পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আশরাফ মহলদার বাবু।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও নোটিশের জবাবে প্রধান শিক্ষক নিজেকে অনুপস্থিত দেখিয়েছেন। অথচ গানটির জন্য তার অনুমতিতেই কয়েকদিন ধরে স্কুলেই ছাত্রীদের অনুশীলন করানো হয়।
জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম মোসলেম উদ্দিন জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের মতো এমন স্পর্শকাতর অনুষ্ঠানে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন বিষয় সরকারের নজরে আসে। পরে সরকারের নির্দেশে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিষয়ে তদন্ত করতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনকে।
কমিটির সত্যতা নিশ্চিত করে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে একটি চিঠি হাতে পেয়েছি। আগামী রোববার সকালে মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার জানান, নোটিশের জবাবের পর রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টর প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিষয়েও প্রতিবেদন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আদেশ পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশাবাদী।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে উপজেলা সলিমপুরের মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘কাঁচা বাদাম’ ও ‘হিন্দি গানের’ সঙ্গে নেচে-গেয়ে জন্মদিন পালন করে।
এ সময় বিদ্যালয়ের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করা হলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি ভাইরাল হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমালোচনার মধ্যে পড়ে। অনেকে ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই পেজটি থেকে ভিডিও ডিলিট করে দেয়। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল আলী
©২০২০-২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || পাবনা নিউজ পোস্ট.কম