স্টাফ রিপোর্টার! নাটোরের লালপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকে তুলে নিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেকে) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মাসুদ রানা লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগসোশা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। বিলমাড়িয়া বাজারে তাঁর প্রসাধনীর দোকান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাসুদ রানা বিলমাড়িয়া বাজারে নিজের দোকান বন্ধ করে অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে নাগসোশা গ্রামে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাজারের পশ্চিম পাশের সড়কে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি ওই মাইক্রোবাসের কাছাকাছি পৌঁছালে ৬/৭ জন লোক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে থানায় যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। কারণ, জানতে চাইলে তাঁরা তাঁকে জোর করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে ফেলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তাঁকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর ডান পা ও ডান হাতের নিচের অংশ কুপিয়ে রগ কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তাঁর মাথায়ও একটা ফোলা জখম রয়েছে। পরে তাঁকে সেখানে ফেলে রেখে মাইক্রোবাসটি চলে যায়। পথচারীরা মাসুদ রানাকে পড়ে থাকতে দেখে তাঁর পকেটে থাকা মুঠোফোন থেকে স্ত্রীর নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানান। তখন তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মাসুদ রানাকে অপহরণের স্থান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গোপালপুর মহিলা কলেজের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। তখন পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে এবং লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক খোরশেদ আলম বলেন, মাসুদ রানার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ও ডান হাতে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাথাতেও আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মাসুদ রানার আত্নীয় সালাহ উদ্দিন জানান, মাসুদ রানা সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্বৃত্তরা তাঁর হাত–পায়ের রগ কাটলেও কাছে থাকা টাকাপয়সা নেয়নি। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে আঘাত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লালপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিক আলী মিষ্টু বলেন, গতকাল রাতে যুবদল নেতা মাসুদ রানাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তাকে সন্ত্রাসীরা ডিবি পরিচয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
লালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জল হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ না পেলেও কারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ শুরু করছে। দ্রুত সময়ের ভেতর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল আলী
©২০২০-২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত || পাবনা নিউজ পোস্ট.কম