ঢাকাThursday , 7 September 2023
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লালপুরে দলীয় কোন্দলে “যুবলীগ নেতা খুন” মিথ্যা মামলায় মহাসিনসহ কারাগারে-৫

Link Copied!

শেয়ার করুন...

নাটোর (লালপুর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দলে যুবলীগ নেতাকে খুন মিথ্যা মামলায় মহসিনসহ ৫ জন কারাগারে। গত (০৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নে ওসমান গনি (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ডাঙ্গাপাড়া চিলান গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার জের ধরে বেশ ক’য়জন সন্দেহভাজন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে স্থানীয়রা এই মিথ্যা মামলার ঘটনাই এলাকায় তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। নিহত ওসমান গনির ভাইয়ের ছেলে কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে লালপুর থানায় ২৫ জনের নাম উলেখ্য করে মামালা করে। ২৫ জন আাসামিদের মধ্যে ২৩ জনই আসামিই আওমীলিগের রাজনিতির সাথে জড়িত বলে জানিয়েছেন। পুলিশ গত রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার ১নং আসামি শিবির নেতা মহসিন আলমসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন মোঃ মহসিন আলম (২৮) পিতা মোঃ মখলেচুর রহমান, গ্রাম,পুকুর পাড়া চিলান লালপুর,আব্দুল লতিব (৫৫) পিতা মৃত নসিম গ্রাম ডাংগাপাড়া। জাকিরুল ইসলাম (৩০) পিতা আফসার, নাদিম (৩৪) পিতা নওশাদ আলী গ্রাম দুয়ারিয়ায় মোঃ মখলেচুর রহমান গ্রাম (৫৫) পিতা মৃত তৈয়ব আলী সাং পুকুর পাড়া চিলান। আসামিদের আদালতে নেওয়ার সময় প্রীজন ভ্যান থেকে শিবির নেতা মহসিন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা ও আমাকে সবাই এই ষড়যন্ত্র সাজিয়েছে। নিহত ওসমান গনি ডাঙ্গাপাড়া এলাকার আখের আলীর ছেলে ও ৫ নং ওয়ার্ড যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি কদিমচিলান ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক হত্যার মামলার প্রধান আসামি। গত ১ জানুয়ারি প্রতিপক্ষের লোকজন আব্দুর রাজ্জাককে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করলে ১৪ জানুয়ারি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ওসমান গনির সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউলের দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীন বিরোধ চলছিল।বিরোধের সূত্র ধরেই এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। নিহত ওসমান গনির বড় ভাই আফসার আলী বলেন, সকালে বাড়ি থেকে গ্রামের দোকানে চা খেতে বের হয় ওসমান। এসময় বাড়ির অদুরে কয়েক জন দুর্বৃত্ত এসে ওসমানকে এলো পাথাড়ি কুপিয়ে পা ও হাতের রগ কেটে মাটিতে ফেলে রেখে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে হাঁসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় ওসমান গনি। এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, একদল কুচক্রী হায়ব্রিড রাজনৈতিক নেতা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এবং এলাকাকে অশান্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তারই জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি এ ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল হোসেন বলেন,পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে শিবির সভাপতি মহসিন আলমকে ও তার বাবা মোখলেছুর রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে নাটোর জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মোঃ আতিকুল ইসলাম জামায়াতের পক্ষ থেকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের কারণ ব্যাখ্যা করে সমাবেশ করেন। এঘটনায় জামায়াতের জেলা আমীর মীর নুরুল ইসলাম এক প্রতিবাদ লিপিতে বিবৃতি দিয়েছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে প্রতিপক্ষর হামলায় নিহত হন এক যুবলীগ নেতা। তাদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।যা প্রকাশ্যে দিবালোকের মতো স্পষ্ট।কিন্তু সম্পুর্ন মিথ্যা উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে ছাত্র শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন আলম এবং তার পিতা মোখলেছুর রহমানকে আটক করেছে যা উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টার শামিল কেবল মাত্র। জামায়াত শিবির কখনো হত্যার রাজনিতি করেনা এঘটনার সাথে জামায়াত শিবিরের নুন্যতম কোন সম্পর্ক নেই।আমি এই হত্যা কাণ্ডের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,এবং অবিলম্বে মহসিন আলম এবং তার পিতা মোখলেছুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের আটক করে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি জানান।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!