ঢাকাSunday , 1 November 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঋণ নিয়ে ৬টি গরু দিয়ে শুরু, আজ দেশসেরা উদ্যোক্তা—জাতীয় যুব পুরস্কার পেলেন লালপুরের রায়হান

Link Copied!

শেয়ার করুন...

লালপুর প্রতিনিধি!
মাত্র ছয়টি গরু নিয়ে শুরু করেছিলেন খামার। সেই ছোট উদ্যোগ থেকেই একে একে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার, জৈব সার কারখানা, মাছের খামারসহ নানা প্রতিষ্ঠান। তাঁর এসব উদ্যোগে কর্মসংস্থান হয়েছে শতাধিক মানুষের। নিজের সাফল্যের পাশাপাশি বদলে দিয়েছেন অনেক পরিবারের জীবনযাত্রা। উদ্যোক্তা হিসেবে এমন অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুল মোত্তালেব রায়হান।
সফল আত্মকর্মী ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ‘জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬’ পেয়েছেন তিনি। রায়হান উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে এবং লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। সারাদেশে দুইটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ১৪টি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, রায়হানের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প শুরু ২০১৪ সালে। ওই বছর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং বেসরকারি ঋণ সহায়তায় ছয়টি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন গরু মোটাতাজাকরণ খামার, জৈব সার কারখানা, বাণিজ্যিক মাছের খামার ও মাছ বিক্রির আড়ত। পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলের বাগান, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্লিনিক ও আইটি সেন্টার। গভীর নলকূপের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সেচসুবিধাও দিচ্ছেন তিনি। স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখছে তাঁর উদ্যোগগুলো।
ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রায়হান। প্রতিবছর ফাঁকা জায়গা ও সড়কের পাশে এক হাজারের বেশি ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আলোর দরজা শিশু বিদ্যানিকেতন’। এ ছাড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।
এসব বিষয়ে আব্দুল মোত্তালেব রায়হান বলেন, পুরস্কার পেয়ে খুব ভালো লাগছে। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সাহস, কঠোর পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা এবং মানুষের জন্য কিছু করার আন্তরিকতা। আমার এই পথচলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অবদান অনেক। তাদের দেওয়া প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা নিয়েই ছয়টি গরু দিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেছিলাম। তারা পাশে না দাঁড়ালে হয়তো আজকের এই অর্জন সম্ভব হতো না। এ অর্জনের পেছনে বিভিন্ন সময়ে সাহস, সহযোগিতা ও উৎসাহ জুগিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।


শেয়ার করুন...

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
error: Content is protected !!