
ট্রেনের টিকিট বিক্রির অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট- দুটোতেই ঢুকতে পারছেন না ভ্রমণ ইচ্ছুকরা৷ কেউ কেউ অনলাইনে ক্যাশ পেমেন্ট করলেও টিকিটের মেইল পাচ্ছেন না৷
বুধবার (১৪ জুলাই) এমন শত শত অভিযোগের মধ্য দিয়ে ঈদ যাত্রার ট্রেনের অনলাইন টিকিট ক্রয় প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে প্রথম দিন৷
অভিযোগীকারীদের অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘণ্টাখানেক চেষ্টার পর অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হয়েছে টিকিট প্রত্যাশীদের৷ কিন্তু তারপরেই দেখা যায় টিকিট নেই৷ আর যারা টিকিট কেনার অপশন পর্যন্ত পৌচ্ছাতে পেরেছিলেন, তাদের অনেকেও ব্যর্থ হয়েছেন বিকাশে টাকা পরিশোধ করতে না পারায়।
আরান জয় নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, মঙ্গলবার তো টিকিট দিলই না, সকাল ৮ থেকে ১০ পর্যন্ত দুই ভাই মিলে চেষ্টা করে একটা টিকিট কাটলাম।
ভিসা কার্ড থেকে পেমেন্টও নিলো অথচ এখন পর্যন্ত টিকিট নেই। একটু পর পর চেষ্টা করেও সারাদিনে একটা সিট পেলাম না। অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ঢুকতে গেলে লোডিং, ইরোর, সিট নেই, সার্ভার ডাউন বার্তা দেখায়।
ক্বাসিন জামান তাশফিক বলেন, কোনোভাবে কি এই টিকিট পাওয়া সম্ভব? এক জায়গায় দেখায় আনসাকসেস ফুল আরেক জায়গায় দেখায় সাকসেস৷
তালহা যুবায়ের বলেন, আসিতেছে নতুন সিনেমা ‘এক মিনিটে টিকিট শেষ’৷
তুষার তানভীর নামে আরেকজন যাত্রী বলেন, যারা টিকিটের মেইল আসা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন তাদের উদ্দ্যেশে বলছি- আমি সাড়ে ১৩ ঘণ্টা পর মেইল পেলাম।
রেলের হয়ে অনলাইনে টিকিট বিক্রি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস)। রেল সেবা অ্যাপ ও ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করে এই প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের সমস্যা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য সিএনএস দেয়নি৷
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সরোয়ার বাংলানিউজকে বলেন, অনলাইনে সবাই একসঙ্গে চেষ্টা করার জন্য সার্ভারে আলাদা একটা চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আগে একদিন/দুইদিনের টিকিট ছাড়লেও এবার একসঙ্গে সব দিনের টিকিট ছাড়ায় সার্ভারে চাপ বেশি। তবে অস্থির না হয়ে চেষ্টা করলেই টিকিট মিলবে। পর্যাপ্ত টিকিট রয়েছে।
করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউনে গত ২২ জুন থেকে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে লকডাউন শিথিল করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ট্রেন চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলতে পারবে ট্রেন।
